ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তৈরি হওয়া মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টার মধ্যে এ পতন নীতিপ্রণেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, জুনের এ মূল্যস্ফীতি গত মে মাসের ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং অর্থনীতিবিদদের দেয়া ৩ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়ে কম। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
অবশ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও তা টানা চতুর্থ মাসের মতো ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ বজায় আছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত মাসে ইসিবি সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছিল। এটি ২০২৩ সালের পর প্রথম সুদহার বৃদ্ধির পদক্ষেপ।
দ্রব্যমূল্য কমে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার চুক্তির পর জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করে।
উদ্বায়ী খাদ্য ও জ্বালানি মূল্য বাদে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি বা কোর ইনফ্লেশন জুনে কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বাজার বিশ্লেষকদের অনুমানের চেয়েও এটি কম। এছাড়া সেবা খাতের মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৩ দশমিক ৫ থেকে কমে জুনে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক মাস আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা স্বস্তিতে আছেন।
সিনত্রায় ইসিবির বার্ষিক ফোরামে ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাম্প্রতিক সংকটের মুখে তাদের পদক্ষেপ ২০২২ বা ২০২৩ সালের মতো এতটা কঠোর হবে না। আগের জ্বালানি সংকটের মতো এবার একই শক্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে তিনি জানান।
এদিকে কমার্সব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, বছরের বাকি সময়ে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। জ্বালানির বাড়তি খরচ ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে সুদহার আরো এক দফা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হতে পারে।